… কিন্তু এভাবে নিজ ধর্মের মর্যাদা কি বৃদ্ধি পায় ???
… কিন্তু এভাবে নিজ ধর্মের মর্যাদা কি বৃদ্ধি পায় ??? avatar

হিন্দুদের মারা ভাল।awami riot
মারতে মজাও অনেক।
বেশির ভাগই রাঁ করতে পারে না।
… কিন্তু এভাবে নিজ ধর্মের মর্যাদা কি বৃদ্ধি পায় ???
তাদের নিবৃত্ত করা হয় না কেন ???

শুনেছি পাপের শাস্তি হয়।
কথাটা মিথ্যা নয় নিশ্চয়।।
– Prodeep Sinha Ray

… কিন্তু এভাবে নিজ ধর্মের মর্যাদা কি বৃদ্ধি পায় ???

এক কথার উত্তর;
না প্রদীপ দা ধর্মের মর্যাদা কখনই এভাবে বৃদ্ধি পায় না।

এক কথার উত্তর হলেও আপনার ৭ লাইনের বক্তব্য অনেক কিছু বলতে চায়।
তাই আপনার আবেগকে সম্মান জানিয়ে কিছু কথা আমিও বলতে চাই।

প্রদীপ, অসহায় হিন্দুদের উপর বর্বর আক্রমনের ঘটনা ঘটল ২০১৪ নির্বাচনের পরে। নির্বাচনের সাথে এই হামলার সম্পর্ক আছে সে কথা বুঝতে আপনাকে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ বা ‘রাজনীতির’ উপর উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে হবে না। একজন ক্লাস সিক্সে পড়ুয়া ছেলেও বুঝবে সমস্যা কোথায়।

তাই, এই কথা আপনিও ভাল করে বুঝেন এবং জানেন এই বর্বর হামলার সাথে ধর্মের চেয়ে রাজনীতির সম্পর্কই বেশী।
মহান রাজনীতিবিদরা এই ঘটনার জন্ম দিয়েছে যেন ধর্মের সাথেই মানুষ সম্পর্ক খুজে বার করে।

একটা ঘটনার উপর মতামত বা সিদ্ধান্তে পৌছার আগে দেখতে হবে সেই ঘটনায় কে কত বেশী ক্ষতিগ্রস্থ এবং কে কত বেশী লাভবান হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অসহায় হিন্দু পরিবার গুলো, বিরোধী রাজনৈতীক দল গুলো এবং দেশ।
লাভবান হয়েছে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধা ভোগীরা।

হিন্দু পরিবার গুলির ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, এক দল মানুষকে গৃহহীন করা হয়েছে।
হাড় কনকনে শীতের মধ্যে আকাশের নিচে অসহায় জীবন যাপন করছেন তারা।

তাদের ক্ষতি বর্ণনা করার কোন ভাষা খুজে পাচ্ছি না। হীন রাজনৈতীক সুবিধা লাভের আশায় যে বা যারা এই কাজ করতে পারে আপনি ভাবছেন তাদের ধর্ম আছে? তারা খুব ধার্মিক?

ধর্মের কোথায়ই বা বলা আছে যে হিন্দুর ঘর পুড়ে দিলে ধর্মের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে?
আমি জানি এই প্রশ্নের উত্তর তারা এবং আপনিও দিতে পারবেন না।

যেহেতু অসুস্থ রাজনীতির শিকার হয়েছে হিন্দুরা সেহেতু খুব সহজেই আঙ্গুল উঠে যায় সরকারী রাজনীতির বিরোধী যারা আছে তাদের দিকে।
প্রদীপ, আপনি কি দেখেন নাই গত কয়েক মাসে যে কয়টা মন্দির/স্কুল/শহীদ মিনার/বাসে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে তার মধ্যে প্রতিটা ঘটনায়ই সরকার দলীয় লোকজন গ্রেফতার হয়েছে। আবার সরকার তাদের জন্য উপযুক্ত কোন শাস্তির ব্যবস্থাও করে নাই। যেমন বিশ্বজিতের বেলায় সরকার খুবই দূর্বল শাস্তির ব্যবস্থা নিয়েছে। যদিও কয়েক জনের ফাঁসির কথা এসেছে, কিন্তু উচ্চ আদালতে তাদের এই কেস টিকবে না বলেই আমি বিশ্বাস করি।

প্রদীপ আপনি ভাবছেন আমি হয়ত বিরোধী দলের সাফাই করছি। না প্রদীপ, আমার বক্তব্যটা স্পষ্ট;
গত দিন গুলিতে সরকার কেন দূর্বৃত্তদের গ্রেফতার করে নাই?
এমনকি মানবাধিকার কমিশনের চ্যারমেন স্বীকার করেছে যে সরকারী দলের লোক জড়িত তবুও গ্রেফতার হয় নাই।
চিহ্নিত দূর্বৃত্তরা পত্রিকায় প্রকাশ পাওয়ার পরেও কেন আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে?
যে দলেরই হোক রামু‘র ঘটনার পরে এত বড় একটা ঘটনায় কেন সরকার নিরব?

প্রদীপ উত্তর কি আপনি জানেন না ?

বলেছি সরকার লাভবান হয়েছে।
৫তারিখের নির্বাচনের পরে সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। যে সব মিডিয়া গুলি এত দিন সরকারে পা চেটেছে আজ সেই সব মিডিয়া গুলিও ৫ তারিখের নির্বাচনের হাস্যকর মঞ্চায়নের দৃশ্য না দেখিয়ে পারে নাই। তাই সরকার প্রবল চাপের মধ্যে ছিল এবং আছে। তাই বর্তমান সরকারের দরকার ছিল সমস্ত সমালোচনার মাইক অন্য দিকে নিয়ে যাওয়ার।
ঠিক তাই হয়েছে, মানুষ এখন আর নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে না, সবাই কথা বলছে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে। মিডিয়া, ব্লগ সব ব্যস্ত হয়ে গেছে হামলার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে। সরকার এখানে সরাসরি লাভবান হয়েছে, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।

হয়ত ভাবছেন, এই সরকার হিন্দু বান্ধব সরকার তারা কেন এমন করবে?
না প্রদীপ জ্ঞান হওয়ার পর এই সরকারকে যতবার ক্ষমতায় দেখেছি ততবারই এই দেশে হিন্দুদের উপর আঘাত হয়েছে। এবং বেশীর ভাগই বিচার হতে দেখি নাই। এই সরকার হিন্দু বান্ধব সরকার নয়, এই সরকার হিন্দুদের ব্যবহার করে ক্ষমতাকে পাকা পোক্ত করার জন্য।

এই সরকারের সাথে সাথে লাভবান হয়েছে সরকারের মিত্ররা এবং সংশ্লিষ্টরা। এমনকি ভিন্ন দেশও জড়িত থাকতে পারে। হয়ত তাদের কাছে এই ঘটনা খুবই ক্ষুদ্র কোন হিসাব বা মূল্যমান পায় না। কারণ তাদের সামনে অপেক্ষা করছে হিমালয় সমান লাভ, সুযোগ, সুবিধা এবং ক্ষমতা। তাই নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে তারা এমন ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দিতেই পারে।

কে করেছে সে কথার চেয়ে যেই করুক সে যেন উপযুক্ত শাস্তি পায় সে কথাটাই বড়।
একদল অসুস্থ মানুষের রাজনীতির জন্য অন্য ধর্ম গালি খাবে তা হতে পারে না।
এই রকম দুর্বৃত্তায়নের স্থান ইসলাম ধর্ম বা কোন ধর্মে নাই।

আপনি এই সরকারের পক্ষ নিয়ে থাকেন কিনা আমি জানি না, এই সরকারের পক্ষ নিয়ে যদি অন্ধকারে থাকতে চান তাহলে বুঝব হিন্দুদের অসহায়ত্বে আপনার কোন পরোয়া নেই, কোন ভাবে মুসলমানদের গালি দিতে পারার অজুহাতটা বের করাই হল মূল উদ্দেশ্য।

এই ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তাদের মাথায় বুদ্ধি আছে বলতে হবে; তারা ঠিকই বুঝতে পেরেছে যে এই ঘটনার ফল পুরোটাই তাদের ঝুড়িতে উঠবে।
১. মুসলিম বিদ্বেষীরা নতুন উদ্যোমে কল্লম (যে কলম বল্লম হয়) হাতে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
২. মিডিয়াতে, এর দোষ তার ঘাড়ে তার দোষ এর ঘাড়ে চাপিয়ে পাশবিক তৃপ্তি নিবেন সাংবাদিক গণ।
৩. ৫ তারিখে ঘটে যাওয়া কমেডি সিনেমার গল্পই আর হবে না।
৪. টক-শো তে যোগ হবে আরো একটা নুতন ভর্তা, যা মুখে দিয়ে সবাই জ্ঞানী হয়ে যাবে।
৫. আবারও হিন্দুদের সাথে মুসলমানদের কয়েকশ মাইল দূরত্ব তৈরী হবে।
৬. হতে পারে ভিনদেশের মুসলিমদের হিন্দুরা প্রতিশোধ নিতে চাইবে।
৭. অন্যায় ঢাকা পড়বে অন্যায় দিয়ে।

শেষের দুই লাইন;

শুনেছি পাপের শাস্তি হয়।
কথাটা মিথ্যা নয় নিশ্চয়।।

প্রদীপ কথাটা ১০০% সত্য। যে বা যারা আপনার অনুভূতিতে আঘাত করে স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে তাদের শাস্তি হবেই।
হয়ত আপনি দেখতে পাবেন বা দেখতে পাবেন না।

৫ comments on “… কিন্তু এভাবে নিজ ধর্মের মর্যাদা কি বৃদ্ধি পায় ???
… কিন্তু এভাবে নিজ ধর্মের মর্যাদা কি বৃদ্ধি পায় ??? avatar

Leave a Reply