ব্র্যাক ইউনিভারসিটি ও নিকাব শো-কোজ
ব্র্যাক ইউনিভারসিটি ও নিকাব শো-কোজ avatar

একটা কথা আগে প্রায়ই শোনা যেত, দ্বীনের দাওয়াত তো নন-মুসলিমদের জন্য। তোমরা মুসলমানদেরকে দাওয়াত দাও কেন? এই কথাটা এখন আর শোনা যায় না, বাংলাদেশের মুসলমানেরা এখন এই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে।

ব্র্যাক ইউনি তাদের ক্যাম্পাসে নিকাব ব্যান করেছে এই খবরে প্রাকটিসিং মুসলমানদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরেছে। হেফাজতে ইসলাম যদি কনো ভাবে দেশে শরীয়া আইন কায়েম করে ফেলে তাহলে তো ব্র্যাক ইউনি তাদের ক্যাম্পাসে মেয়েদেরকে ব্যান করে দেবে তখন আমাদের মাথায় কি পড়বে ভেবে কুল পাইনা।
nikab
ব্র্যাক ইউনি শুধু হাফসা ইসলামকে শো-কোজ করেছে তার মানে হচ্ছে এই ইউনিতে শুধু সে একাই নিকাব পড়ে। বাকিরা, যারা নিকাব পড়ে না তারা কি আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য এই ইউনি বর্জন করবে? আমার তো মনে হয় না তারা তাদের সহপাঠীর জন্য দুই একটা ক্লাস বর্জন করবে। ক্লাস বর্জনের চিন্তা বাদ দিলাম, ব্র্যাক ইউনি যদি বলে তারা নিকাবের পক্ষে বিপক্ষে ভোট গ্রহণ করবে, নারী নির্যাতন আর মাদক প্রতিরোধে যে বিশ্ববিদ্যালয় গুলাতে কমিটি গঠন করা লাগে, আমার তো মনে হয়না তারা নিকাবের পক্ষে ভোট দিবে বলে। তাহলে কেন আমরা ব্র্যাক ইউনির প্রশাসন কে দোষারোপ করছি?

প্রতিদিন সকালে আমি যখন কাজে যাবার জন্য বের হই, রাস্তায় নেমেই দেখি দলে দলে মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে, ৯০% মেয়ে হিজাব পড়া অনেকেই নিকাব পড়া। তাদের দেখা মাত্র শ্রদ্ধায় আর আল্লাহর ভয়ে দৃষ্টি জমিনে চলে যায়। মুমিন তো তারাই যাদের দেখলে অন্তরে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। আমি আফগানিস্তানের কনো রাস্তার গল্প শোনাচ্ছি না, আমি লন্ডনের একটা ব্যস্ত রাস্তা বো-রোড এর কথা বলছি। কনো ইসলামিক স্কুল নয় একটা সাধারন গার্লস স্কুলের কথা বলছি। বো-রোড, লন্ডন, E3.

গত বছর দাওয়াতের কাজে Stoke-on-Trent  গিয়েছিলাম (ইংল্যান্ডে ছোট্ট একটা শহর, প্রায় ১২,০০০ মুসলমানের আবাস)। সেখানে আমাদের ভাইয়েরা একটা ইসলামিক গার্লস স্কুল বানাচ্ছিল। এই দেশে ইসলামিক স্কুল বানানো সহজ কথা না। মিলিওন পাউন্ডের ব্যাপার, বিল্ডারের মূজূড়ী সেইভ করার জন্য ভাইয়েরা নিজেরাই শ্রম দিচ্ছিল। গত মাসে Stoke-on-Trent  ইজতে-মাতে যোগ দেয়ার জন্য গিয়েছিলাম। স্কুলের খবর আমাকে বিশ্বয় করেছে, এই স্কুলে মাত্র দুই জন ছাত্রী ভর্তির জন্য আপ্লাই করেছে!

আচ্ছা আরেকটা দৃশ্য কল্পনা করি, আমরা সামাজিক আন্দোলন করে অথবা গাড়ি ভাংচোর করে দাবি আদায় করে নিলাম। ব্র্যাক ইউনিতে হাফসা ইসলাম নিকাব পরতে পারবে। দুই বছর, তিন বছর কিংবা চার বছর পড়ে যখন এই ইউনিতে নিকাব পরার মতো কেউ থাকবে না তখন এই আদায় করা অধিকার দিয়ে কি হবে?

আমরা গোড়াতেই গলদ করে বশে আছি, একটা মেয়ে ৭/৮ ঘণ্টা নিকাব লাগিয়ে বোরখা পড়ে ক্যাম্পাসে ঘোরা ঘোরি করবে, ক্লাস করবে আর তার সহপাঠী ছেলেটা থ্রি কোয়াটার আর টি শার্ট পড়ে আরাম করবে এইটা তো অবিচার। আমাদের তো আন্দোলন করার কথা ছিল আমাদের বোনদের জন্য আলাদা ক্যাম্পাসের, প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজের একটা মহিলা শাখা থাকবে। যে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সাথে সাথে সে যেন মনে করে সে তার নিজ ঘরে প্রবেশ করেছে। সেই ঘরে সে আনন্দের সাথে শিক্ষা গ্রহণ করবে, অবসরে সেই ক্যাম্পাসে নিকাব ছাড়াই ঘুরে বেড়াবে, কফি খাবে, বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা দিবে, মাঝ রাত পর্যন্ত ল্যাব এ গবেষণা করবে …।

এটা একদিনে অর্জন করা যাবে না। আমাদেরকে প্রতিটা ছেলের কাছে, প্রতিটা মেয়ের কাছে, তাদের অভিবাবকের কাছে যেতে হবে। প্রতিটা ঈমানদারকে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে। “হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কর না [বাকারাঃ২০৮]”। ঈমান ওয়ালারা যখন পরিপূর্ণভাবে ইসলামকে ধারন করবে, আর ইসলাম কে ধারণ করার জন্য সব ধরনের কোরবানি (জান, মাল, পরিজন, চাকরী, ব্যবসা, পড়াশোনা/ইউনি) দেবার জন্য প্রস্তুত হবে তখনি আল্লাহর সাহায্য আসবে। আর আমাদের দরকার আল্লাহর সাহায্য, যে সাহায্য এসেছে সাহাবীদের (রাঃ) সঙ্গে। তারা তখনই সাহায্য পেয়েছিল যখন সবাই একসঙ্গে কোরবানি দেয়ার জন্য এক কাতারে দাঁড়িয়েছিল। গরু কোরবানি না, নিজের জানের কোরবানি!

আল্লাহ-পাক আমাদের সবাইকে বোঝার ও আমল করার তৌফিক দাণ করুন। আমীন।

facebook.com/sheikh.sadi

২ comments on “ব্র্যাক ইউনিভারসিটি ও নিকাব শো-কোজ
ব্র্যাক ইউনিভারসিটি ও নিকাব শো-কোজ avatar

  • অত্যন্ত সময় উপযোগী রচনা।
    তবে ব্রাক ইউনির ঘটনা প্রবাহের সাথে একটু অমিল আছে।
    এখানে একজন মানুষের ব্যাক্তি স্বাধীনতা বা তার ধর্ম চর্চার পরিবেশ এবং চর্চা করতে পারার অবস্থার কথা বলা হচ্ছে। যদি হয়েই থাকে বাংলাদেশ কোন সেক্যুলার গণতান্ত্রিক দেশ তাহলে সেই দেশের একজন মেধাবী নাগরিক কেন তার ধর্ম চর্চা করতে পারবে না?
    যখন অন্য সহপাঠিরা ঠিকই লেংটি পরিধান করে ইউনিতে যাচ্ছে।
    এই সত্যটা উপলব্ধি করতে হবে তো। তবে আপনার চিন্তার দাবীকে কিছুতেই উপেক্ষা করা যাবে না।

    বারাক আল্লাহ ফিক

    Reply
  • আরেকটা ব্যপার হল যদি প্রতিবাদ না হয় দাওয়াত দিলে সব গুলি মেয়ের জন্যই তাহলে কপালে বেন বা শো-কজ জুটবে। তাই দাওয়াতে পরিবেশ তৈরীর জল্য প্রতিবাদ করা দরকার। তা না হলে অন্য মেয়ে গুলি সাহস পাবে না উল্টা ভয়ে পর্দা ছেড়ে দিবে।

    Reply

Leave a Reply